পশ্চিম মেদিনীপুরের লুকানো রত্ন: চন্দ্রকোণা দুর্গ ও মন্দির ভ্রমণ গাইড
চন্দ্রকোণা: ইতিহাসের ধ্বংসাবশেষে একদিনের সফর 🏛️
পশ্চিম মেদিনীপুরের ইতিহাসের ধুলোবালি মাখা এক প্রাচীন জনপদ হলো **চন্দ্রকোণা**। একসময় মল্লরাজাদের সমৃদ্ধ রাজধানী আজ ইতিহাসের মৌন সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আপনি যদি পোড়ামাটির অসাধারণ কারুকার্য আর প্রাচীন দুর্গের ধ্বংসাবশেষ দেখতে ভালোবাসেন, তবে আপনার পরবর্তী ডে-ট্রিপের জন্য চন্দ্রকোণা হতে পারে সেরা গন্তব্য। "বাংলার পথেঘাটে" (Banglar Pothegathe)-এর আজকের পর্বে আমরা জানব এই ঐতিহাসিক নগরীর দর্শনীয় স্থান ও যাতায়াতের বিস্তারিত।
🔍 প্রধান দর্শনীয় স্থান
🏯 রামগড় ও লালগড় দুর্গ
চন্দ্রকোণার রাজাদের নির্মিত এই দুর্গের সিংহদুয়ার এবং পরিখা আজও টিকে আছে। মধ্যযুগীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাজকীয় ইতিহাসের এক অনন্য উদাহরণ এই দুর্গ এলাকা।
🛕 টেরাকোটা মন্দিরসমূহ
চন্দ্রকোণা টাউনের আশেপাশে ছড়িয়ে আছে একাধিক প্রাচীন মন্দির। বিশেষ করে রঘুনাথ জিউ মন্দির ও বিভিন্ন জোড়-বাংলা স্থাপত্যের পোড়ামাটির কাজ আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
সময়ের বিবর্তনে আজও টিকে আছে প্রাচীন বাংলার এই অপূর্ব স্থাপত্য
🗓️ একদিনের আদর্শ রুট প্ল্যান
- সকাল ৮:০০ - কলকাতা বা মেদিনীপুর থেকে যাত্রা শুরু।
- সকাল ১০:৩০ - চন্দ্রকোণা টাউনে পৌঁছানো এবং হালকা নাস্তা।
- বেলা ১১:০০ - ১:৩০ - রামগড় দুর্গের ধ্বংসাবশেষ এবং নিকটস্থ মন্দিরসমূহ পরিদর্শন।
- দুপুর ২:০০ - স্থানীয় হোটেলে খাঁটি বাঙালি থালি দিয়ে দুপুরের খাবার।
- বিকেল ৩:৩০ - গ্রামীণ লোকশিল্প বা স্থানীয় হস্তশিল্প দেখা।
- সন্ধ্যা ৬:০০ - ফেরার পথে রওনা।
💡 প্রো-ট্রাভেলার বাজেট টিপস
চন্দ্রকোণা ঘোরার জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায় হলো মেদিনীপুর বা খড়গপুর থেকে বাসে আসা। শহরের ভেতরে ঘোরার জন্য টোটো ভাড়া করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। অফ-সিজনে গেলে গাইড চার্জ এবং যাতায়াতে অনেক ছাড় পাওয়া যায়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন