আধ্যাত্মিক শান্তি ও প্রকৃতির মাঝে: মায়াপুর ও পূর্বস্থলী উইকেন্ড এস্কেপ গাইড
খনার ঢিবি থেকে বিদ্যাধরী নদীর তীরে প্রাচীন ঐতিহ্যের সন্ধানে
কলকাতা থেকে মাত্র ৩৫-৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক কেন্দ্রটি দীর্ঘকাল ধরে গবেষক এবং ইতিহাসপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। একসময় বিদ্যাধরী নদী ছিল এই সভ্যতার প্রাণভোমরা, যা এই অঞ্চলের সাথে বিদেশের বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত করেছিল। এখানকার খননকার্যে পাওয়া পোড়ামাটির ফলক বা টেরাকোটা আর্ট প্রমাণ করে যে তৎকালীন শিল্পকলা কতটা উন্নত ছিল। রোমান সাম্রাজ্যের সাথে এই সভ্যতার বাণিজ্যের যোগসূত্র ছিল বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন।
এটি চন্দ্রকেতুগড়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। বিশাল এক মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ এবং জ্যোতিষী খনার কিংবদন্তি এখানে মিশে আছে।
লোকাল মিউজিয়ামগুলোতে প্রাচীন মুদ্রা, মাটির পাত্র এবং শিলালিপি দেখে তৎকালীন জীবনযাত্রা বোঝা যায়।
এককালের প্রমত্তা বিদ্যাধরী আজ শীর্ণ হলেও এর তীরের শীতল পরিবেশ ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করে দেয়।
কলকাতা থেকে বাস বা ট্রেনে খুব সহজেই চন্দ্রকেতুগড় পৌঁছানো যায়। শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদ লোকাল ধরে হাড়োয়া রোড স্টেশনে নেমে অটো বা বাসে বেড়াচাঁপা আসা যায়। অথবা ধর্মতলা থেকে সরাসরি বাস পাওয়া যায়।
এটি মূলত একদিনের ট্রিপ (Day Trip) হিসেবেই সবচেয়ে ভালো। তবে আপনি চাইলে আশেপাশে বসিরহাট বা টাকি ভ্রমণের সাথে এটি যুক্ত করতে পারেন।
পাহাড় বা জঙ্গল ভ্রমণের মতো ঐতিহাসিক জায়গায় ভ্রমণের জন্যও কিছু দরকারি সরঞ্জাম সাথে রাখা ভালো:
১. চন্দ্রকেতুগড় ভ্রমণের জন্য শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে আরামদায়ক।
২. সাথে অবশ্যই জল এবং শুকনো খাবার রাখবেন কারণ মূল প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় ভালো খাবারের দোকান সীমিত।
৩. প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর কোনো ক্ষতি করবেন না এবং প্লাস্টিক বর্জন করে পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন।
বাংলার এই সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষী থাকতে আপনি কবে যাচ্ছেন? উত্তর ২৪ পরগনার এই অফবিট ডেস্টিনেশন আপনার উইকএন্ডকে করবে স্মৃতিমধুর।
হোটেল এবং যাতায়াতের সেরা ডিলগুলো দেখে নিতে পারেন নিচে:
সম্পূর্ণ গাইড ডাউনলোড করুন ➔© 2026 চন্দ্রকেতুগড় ট্রাভেল গাইড | বাংলার প্রাচীন ইতিহাসের গৌরব গাথা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন